১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে যে কাউন্সিলরা জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন যশোরের শার্শায় ইজিবাইক চালককে হত্যা করে বাইক ছিনতাই রাজাকার-স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকাসহ নতুন পেট্রোবাংলা আইন আসছে ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চার প্রস্তাব দিলো আ’লীগ না‌রায়ণগঞ্জ সি‌টি নির্বাচন- ঐক‌্যবদ্ধ ১৮নং ওয়ার্ডবাসী নির্বা‌চিত কর‌লো মুন্না‌কে, নেপ‌থ্যে লাভলু-রানা না’গঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উষ্ণ অভিনন্দন বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাক থেকে হেলপারের লাশ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আগামী পাঁচ বছরের জন্য যারা নেতৃত্ব দিবেন নাসিক নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত আইভী জয়ী
  • প্রচ্ছদ
  • খুলনা >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ >> দেশজুড়ে >> স্বাস্থ্য
  • মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে খাবার পানি সংগ্রহ ও হাত ধৌতের ব্যবস্থা চালু
  • মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে খাবার পানি সংগ্রহ ও হাত ধৌতের ব্যবস্থা চালু

    নূরুল হক, মণিরামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে রোগীসহ সাধারনের জন্য সুপেয় পানির যখন তীব্র সংকট, তখন জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা’র (জাইকা) অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছে সুপেয় পানির বুথ। বুথের ৩টি ট্যাব থেকে এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীসহ সাধারণরা চাহিদা মত সুপেয় পানি সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধৌতের জন্য পৃথক একটি বুথ। বুথের বেসিন থেকে লিকুইড সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা হচ্ছে। আর এটি বাস্তবায়নে রয়েছে বেসরকারি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ। তবে সুপেয় খাবার পানি সরবরাহ ও হাত ধৌত প্রকল্পে জাইকার বরাদ্দের পরিমান সম্পর্কে সুনিদ্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে প্রতিদিন সাড়ে চার থেকে পাঁচ’শ জন রোগি চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অধিকাংশ রোগিদের সাথে আবার তাদের স্বজনরাও এসে থাকে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে সুপেয় পানির ক্ষেত্রে। কারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে মাত্র একটি গভীর ও একটি অগভীর নলকুপ। এ নলকুপ থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয় শুধুমাত্র অভ্যন্তরীন (ওয়ার্ড) রোগি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ও আবাসিকে।

    মাঝেমধ্যে বহির্বিভাগে একটি ফিল্টারের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সেটা ছিল অত্যন্ত প্রতুল। ফলে বহির্বিভাগে খাবার পানির সংকট দেখা দেয় চরম আকার। যে কারনে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিয়ে রোগিসহ সাধারনের মধ্যে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ। করোনা কালিন সময়ে বহির্বিভাগে রোগির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সংকট আরো চরম আকার ধারন করে। এক পর্যায়ে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) স্বাস্থ্য কমপ্লে´ের বহির্বিভাগে সুপেয় পানি সরবরাহ ও হাত ধৌতের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করেন। জাইকার অর্থায়নে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ গত মার্চ মাসে বহির্বিভাগের সামনে সুপেয় পানি সরবরাহ ও হাত ধৌতের জন্য কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

    খাবার পানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয় একটি বুথ। সেই বুথে রয়েছে তিনটি ট্যাব। পাশে স্থাপন করা হয় একটি গভীর নলকুপ। সেই নলকুপ থেকে মোটরের সাহায্যে (অটো) ট্যাংকিতে পানি ভরা হয়। আর ট্যাংকি থেকে বুথের ট্যাবে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে বুথ থেকে সব সময় খাবার পানি সংগ্রহ শুরু হয়। অপরদিকে পানি সংগ্রহ বুথের সামনে দক্ষিন পাশে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধৌতের একটি বুথ। এ বুথে রয়েছে দুইটি বেসিন। বেসিনে পৃথকভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে লিকুইড সাবান ও পানির। ফলে রোগিরা বুথের বেসিন থেকে হাত ধৌতের পর বহির্বিভাগে প্রবেশ করছে।

    বুধবার সকাল ১১ টায় সরেজমিন দেখাযায়, বহির্বিভাগের সামনে পানি সরবরাহ ও হাতধৌতের বুথের সামনে রোগিদের বেশ ভীড়। এ সময় কথা হয় শ্যামকুড় থেকে আসা রফিকুল ইসলাম ও রোজিনা খাতুন নামে দুই রোগির সাথে। তারা জানান, বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে তারা পিপাসার্ত হয়ে পড়েন। ফলে তারা বোতলে করে এ বুথ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। আবার রোহিতা থেকে আসা গৃহবধু মরিয়ম বেগম, হালিমা খাতুন খাবার পানি সংগ্রহের পর অপরপ্রান্তের বেসিন থেকে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধৌত করে ভেতরে প্রবেশ করছেন চিকিৎসাকের কাছে। পানির বুথের সামনে থাকা উপস্থিতিরা জানান, দীর্ঘদিন পর খাবার পানি সংগ্রহের জন্য বুথ নির্মান করায় তাদের বেশ উপকার হয়েছে। বহির্বিভাগে দায়িত্বরত এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের স্বাস্থ্য সহায়ক রেজাউল করিম ও শাহানাজ পারভীন জানান, বহির্বিভাগে প্রবেশের আগে বেসিন থেকে রোগিদের হাত ধৌত করার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।

    আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: অনুপ কুমার বসু জানান, বহির্বিভাগের সামনে সুপেয় পানি সংগ্রহ ও সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌতের ব্যবস্থা করায় রোগিদের জন্য অত্যন্ত ভাল হয়েছে। তবে খাবার পানি সংগ্রহ ও হাত ধৌত প্রকল্পে জাইকার বরাদ্দকৃত অর্থের পারিমান সম্পর্কে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের পানি সরবরাহ প্রকৌশলী জয়নুল জামান জানান, বরাদ্দ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেননা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, পানি সরবরাহ ও হাত ধৌত প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেননি।

    আরও পড়ুন