১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে যে কাউন্সিলরা জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন যশোরের শার্শায় ইজিবাইক চালককে হত্যা করে বাইক ছিনতাই রাজাকার-স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকাসহ নতুন পেট্রোবাংলা আইন আসছে ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চার প্রস্তাব দিলো আ’লীগ না‌রায়ণগঞ্জ সি‌টি নির্বাচন- ঐক‌্যবদ্ধ ১৮নং ওয়ার্ডবাসী নির্বা‌চিত কর‌লো মুন্না‌কে, নেপ‌থ্যে লাভলু-রানা না’গঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উষ্ণ অভিনন্দন বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাক থেকে হেলপারের লাশ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আগামী পাঁচ বছরের জন্য যারা নেতৃত্ব দিবেন নাসিক নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত আইভী জয়ী
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ
  • মাদারীপুর ইরি মৌসুমে সারের বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন, ডিলার পয়েন্টের তালিকা হালনাগাদ করার দাবি
  • মাদারীপুর ইরি মৌসুমে সারের বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন, ডিলার পয়েন্টের তালিকা হালনাগাদ করার দাবি

    মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে সরকারী সারের বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় নানা ধরনের গুজবে বিড়ম্বনার শিকার সার ডিলাররা। রবি শষ্যের মৌসুমে সারেরযে বরাদ্দ হয়েছ তা কৃষকের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। চলতি বছরে রবি শষ্যের আবাদ বেশি হওয়ায় সারের চাহিদাও বেশি ছিল। যে কারনে হঠাৎ করেই নন ইউরিয়া সারের চাহিদা বেড়ে যায়। কিছু সারের বরাদ্দ কম হওয়ায় আশানুরুপ উৎপাদান ব্যহত হওয়ার বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করছে স্থানীয় কৃষকরা। ইরি মৌসুমে সারের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে তাই ইরি মৌসুমে সারের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ডিলারদের। ডিলাররা সরকারী মূল্যে সার বিক্রি করলেও বরাদ্দকৃত সার শেষ হলে কৃষকরা বিভিন্ন দোকান থেকে কিছুটা বেশি দামে ক্রয় করলেও তারা সরকারী সারের ডিলারদের উপরে দোষ চাপিয়ে দেন না বুঝে। ডিলার পয়েন্টের তালিকা হালনাগাদ করার দাবিও সার ডিলারদের।

    প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস কৃষি অধিদপ্তরের। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সরকারী ভর্তুকির টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার সূলভ মূল্যে বিক্রির জন্য ডিলারদের যে পরিমান বরাদ্দ দেয়া হয় তা অপ্রতুল বলে মনে করেন তারা। মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রবি শষ্যের চাষাবাদ দেড়গুন বেশি হওয়ায় সারের চাহিদাও বেড়ে যায় আনুপাতিক হারে। ফলে নন ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়। চলতি বছরে যে পরিমান সারের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা ফসল আবাদের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় বলে মনে করেন কৃষক ও সার ডিলাররা। সরকারের বরাদ্দকৃত সার শেষ হলে কৃষকরা বিভিন্ন দোকান থেকে কিছুটা বেশি দামে সার কিনে সে দোষটা ডিলারদের উপরে চাপিয়ে দেয় না বুঝে।

    কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে জেলায় সেপ্টেম্বর মাসে টিএসপি ৯০ মে.টন,ডিএপি ১১২৩ মে.টন,এমওপি ১৭৩ মে.টন বরাদ্দ দেয়া হয়। অক্টোবর মাসে বরাদ্দ দেয়া হয় টিএসপি ১৯৮ মে.টন, ডিএপি ২৩৪০ মে.টন এবং এমওপি ৪৩০ মে.টন। নভেম্বও মাসে বরাদ্দ দেয়া হয় টিএসপি ৩৯০ মে.টন, ডিএপি ৩১৬০ মে.টন এবং এমওপি ৬৭০ মে.টন । ডিসেম্বর মাসে টিএসপি ৪০০ মে.টন, ডিএপি ২৪৬৩ মে.টন এবং এমওপি ৬৫৬ মে.টন। চলতি বছরে রবি শষ্য প্রায় দেড়গুন বেশি আবাদ হয়েছে সেই তুলনায় সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ফলে সারের চাহিদা এ বছর অন্য বছরের তুলনায় বেশি। বিশেষকরে নন ইউরিয়া সারের চাহিদা মাফিক বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এমওপি সার করোনার প্রভাবে আমদানি কম হওয়ায় তেমন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাই এ সারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। জেলার মোট ডিলার ও সাব ডিলার ৯৩ জন হলেও তাদের পুরনো ঠিকানা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন ঠিকানা হালনাগাদ না করায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় প্রায়ই। মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক চিন্তা চেতনা কাজ করে।

    কেন্দুয়া ইউনিয়নের কৃষক বাতেন ঢালি বলেন, আমি কয়েকদিন সরকারী দামে সার পেয়েছি। তবে এমওপি সারটি নাকি ডিলাররা কম পেয়েছে তাই বেশি পাইনি। আরও বেশি সার পেলে ভাল হতো। এ বছর গত বছরের চেয়ে অনেক রবি শষ্য আবাদ করেছি। তবে ইরি মৌসুমে যেন সার ঠিক মতো পাই । ঝাউদি ইউনিয়নের কৃষক তারা মিয়া মোল্লা জানান, সাব ডিলারদের থেকে সার নিয়ে ক্ষেতে দিয়েছি। তবে মাসের শেষ দিকে সার পাওয়া যায়না। সরকার আমাদের বেশি সার দিলে ভাল হতো। ইরি মৌসুমে অনেক বেশি সার লাগবে। তখন সার না পেলে ধানের ফলন কম হবে।

    ঘঁটমাঝি ইউনিয়নের এক সাব ডিলার বলেন, আমরা মূল ডিলারদের নিকট থেকে সরকারী মূল্যে সার এনে গ্রামের কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। ডিলারদের বরাদ্দ শেষ হলে তারা আমাদের দিতে পারে না। বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। পুরানবাজার এলাকার ডিলার শ্যামল কুমার দে বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করি। প্রতিটি ইউনিয়নে যারা সাব ডিলার আছে আমরা তাদের সার দিয়ে দেই বিক্রির জন্য। বেশি দামে বিক্রি করিনি কখনো। ইউরিয়া সারের চাহিদা একটু কম হলেও নন ইউরিয়া সারের চাহিদা অনেক বেশি । তবে রবি শষ্য বেশি আবাদ হওয়ায় এ বছর সারের চাহিদা বেশি ছিল। ইরি মৌসুমে সারের চাহিদা খুব বেশি থাকে তাই আমাদের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া দরকার।

    মাদারীপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সারের চাহিদা বেশি বলে ডিলাররা আমাকে জানিয়েছে। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি অনুমোদন হলে আশা করি কৃষকের চাহিদা পূরন হবে। আর ডিলারদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য প্রত্যেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। আশাকরি খুব শিঘ্র সব সমস্যার সমাধান হবে।

    আরও পড়ুন