১৬ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন চলছে, ভোটারদের উপস্থিতি কম অমিক্রন প্রতিরোধে বেনাপোল ইমিগ্রেশন উদাসীন ! “৮ মাসের শিশু” অপহরণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঢাকার উত্তরা থেকে উদ্ধার অনলাইন নয়, জবিতে ক্লাস চলবে সশরীরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মিছিল ও জনসংযোগ করেন সাপাহার মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন : সভাপতি মনিরুল, সম্পাদক নিখিল মাদারীপুরে প্রধান শিক্ষিকার নামে অনিয়মের অভিযোগ!! ব্যবস্থা নিচ্ছেনা স্থানীয় প্রশাসন শার্শা সদর ইউনিয়নে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্বভার গ্রহন ঢাবিতে ‘সেকেন্ড টাইম’ পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান জনপ্রতিনিধিরা জনগনের নিকট দায়বদ্ধ – আনোয়ার হোসেন
  • প্রচ্ছদ
  • আইন আদালত >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ
  • গোলার ধান খেয়ে ফেলায় হাতির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি
  • গোলার ধান খেয়ে ফেলায় হাতির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি

    শুকনো মৌসুমে দেশের বনাঞ্চলের আশেপাশের লোকালয়ে প্রায়শ বুনো হাতি চলে আসে।গোলার ধান খেয়ে ফেলায় হাতির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি করেছেন চট্টগ্রামের একজন কৃষক।গত সোমবার ভোররাতে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটলেও শনিবার স্থানীয় থানায় হাতির বিরুদ্ধে অভিযোগটি দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক নিপুণ কুমার সেন।

    সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, চার/পাঁচটি হাতি তার বাড়ির উঠোনে ধান রাখার টিনের গোলায় হামলা করে অন্তত ১০০ আড়ি ধান নষ্ট করেছে।স্থানীয় পরিমাপের হিসাবে এক আড়ি ধান বলতে ১০ কেজি বোঝানো হয়ে থাকে।নিপুণ কুমার সেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন,কিছুদিন আগেই আমার জমি থেকে উৎপাদিত ধান তুলে বাড়ির উঠানের একটি গোলায় রেখেছিলাম। ছয় কানি জমি থেকে ( দুই একর ৪০ শতক) প্রায় চারশ আড়ি ধান হয়েছে।

    ” গত সোমবার (২২শে নভেম্বর) ভোর রাতে চার/পাঁচটি হাতি এসে আমার গোলার ধান উল্টেপাল্টে ফেলেছে। হাতিগুলো আনুমানিক প্রায় ১০০ আড়ি ধান নষ্ট করেছে। এলাকাবাসী হাতিগুলো দেখে চিৎকার শব্দ করতে থাকলে সেগুলো পরে পাহাড়ের দিকে চলে যায়।”

    তিনি জানান, তাদের এলাকায় হাতির পাল প্রায়ই ফসলের নানা ক্ষেতে হামলা করে। গত বছর হাতির আক্রমণে একজন গ্রামবাসী নিহত হয়েছিলেন।

    তিনি বলছেন, ”হামলার খবরটি জানার পর আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান বললেন, ক্ষতিপূরণ পাও না পাও, হাতির হামলার ঘটনাটা জানিয়ে একটি জিডি করে রাখো। তাই একটু দেরি হলেও একটা জিডি করেছি।”

    হাতির হামলায় সাধারণ ডায়রির তথ্য নিশ্চিত করে বোয়ালখালী থানার ওসি আব্দুল করিম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”গতকাল তারা সাধারণ ডায়রি করে গেছেন। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।”

    তবে তিনি ধারণা করছেন, আসলে হাতির হামলায় যাতে সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়া সহজ হয়, সেই জন্য তারা এই জিডি করে থাকতে পারেন। এর আগেও বুনো প্রাণীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় থানায় জিডির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং এশিয়ান এলিফেন্ট স্পেশালিষ্ট গ্রুপের সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলছেন, ধান হাতির একটি প্রধান পছন্দের খাবার। রেডি ফুড বা সহজে খাবার পেলে অন্য সব প্রাণীর মতো হাতিও খেতে পছন্দ করে।

    ”তবে আসল সমস্যা হলো, হাতির চলাচলের বা বসবাসের এলাকা নষ্ট করে বসতি তৈরি হচ্ছে, ফসলের চাষ করা হচ্ছে, ফসল রাখা হচ্ছে। তাই হাতিও সেসব এলাকায় আসছে, খাবার পেলে খাওয়ার চেষ্টা করছে,” বলছেন অধ্যাপক ফিরোজ।

    শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের বনাঞ্চলের আশেপাশের লোকালয়ে ফসলের জমিতে প্রায়শ বুনো হাতি চলে আসে।বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গত একমাসে আটটি হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফসলের ক্ষেত রক্ষায় কৃষকদের নেয়া নানা ব্যবস্থায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    রবিবারও হাতি হত্যার প্রতিবাদসহ বন্যপ্রাণী হত্যা ও বন উজাড় প্রতিরোধে বন অধিদপ্তরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ৩৩টি পরিবেশবাদী সংগঠন।

    গত ২২শে নভেম্বর একটি আদেশে হাতি হত্যা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হাতি হত্যা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    আরও পড়ুন