৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী ‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইমনকে ছেড়ে দিয়েছে র‍্যাব এ বছর ‘বেগম রোকেয়া’ পদক পাচ্ছেন ৫ নারী নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে চাইলেই সরিয়ে দেয়া যায় না : হাছান মাহমুদ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন মুরাদ হাসান পদত্যাগের পর এবার মুরাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে : হানিফ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন একজনকে প্যারিসে গ্রেপ্তার অন্তঃসত্ত্বা বড় বোনকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা লাকসাম বৈরী আবহাওয়া টানা বৃষ্টিতে থমকে গেছে জনজীবন
  • প্রচ্ছদ
  • এক্সক্লসিভ >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ >> দেশজুড়ে
  • চিরিরবন্দরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
  • চিরিরবন্দরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

    চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৮ নম্বর সাঁইতাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন শাহের বিরুদ্ধে অর্থ বরাদ্দ, কর ফাঁকি ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটের অর্থ চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনের বাবার মাদ্রাসা খোঁচনা ওকড়াবাড়ী হামিদ হাজী এতিমখানা ও মাদ্রাসা সংস্কারে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই মাদ্রাসাটি ২ নম্বর সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে।

    অভিযোগকারী এসএম মহসিন আলী আলী দুলু বলেন, ‘দুই অর্থ বছরে চেয়ারম্যানের বাবার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ৫ লাখের বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই মাদ্রাসাটি এতিমখানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতি বছর ৪১ জন এতিম ছাত্রের নামে টাকা উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান। যদিও সেখানে কোনো এতিম ছাত্র নেই। দেড় শতাধিক ছাত্র প্রতি মাসে এক থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ফি প্রদান করেন।’

    সাঁইতাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ডা. মোহাম্মদ আলী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শামসুল আলমকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনের কাছে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বহুবার সাহায্যের আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি কোনো অনুদান দেননি। নিজ ইউনিয়নে না দিয়ে অন্য ইউনিয়নে নিজ বাবার মাদ্রাসায় অনুদান দেন তিনি”।

    এদিকে ২নং সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহ অভিযোগ করেন, সাতনলা ইউনিয়নে অবস্থিত চেয়ারম্যান মোকাররম তার মিল-চাতালসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে কর পরিশোধ করেন না।

    এ ছাড়া সাঁইতাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এনামুল হক অভিযোগ করেন, ‘চেয়ারম্যান মোকাররম প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দিয়েছেন নিজের আত্মীয়-স্বজনকে। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের চাচা আব্দুল বারী ও তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে দুইটি বাড়ি দেওয়া হয়েছে। ইটভাটার ম্যানেজারকেও বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে।’

    এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন উত্তেজিত হয়ে পরেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমাকে একটি মিথ্যা মামলায় পার্বতীপুর থানা পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছিল। আদালত থেকে জামিন পেয়েছি।’

    চিরিরবন্দর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতি বছর ৪১ জন এতিম ছাত্রের নামে টাকা উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান মোকাররম। মাদ্রাসাটির ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

    অভিযোগের ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, ‘চেয়ারম্যানের (মোকাররম হোসেন) ব্যাপারে একটি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। তবে তা এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

    আরও পড়ুন