১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে যে কাউন্সিলরা জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন যশোরের শার্শায় ইজিবাইক চালককে হত্যা করে বাইক ছিনতাই রাজাকার-স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকাসহ নতুন পেট্রোবাংলা আইন আসছে ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চার প্রস্তাব দিলো আ’লীগ না‌রায়ণগঞ্জ সি‌টি নির্বাচন- ঐক‌্যবদ্ধ ১৮নং ওয়ার্ডবাসী নির্বা‌চিত কর‌লো মুন্না‌কে, নেপ‌থ্যে লাভলু-রানা না’গঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উষ্ণ অভিনন্দন বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাক থেকে হেলপারের লাশ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আগামী পাঁচ বছরের জন্য যারা নেতৃত্ব দিবেন নাসিক নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত আইভী জয়ী
  • প্রচ্ছদ
  • অপরাধ >> আইন আদালত >> খুলনা >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ >> দেশজুড়ে >> লিড >> স্বাস্থ্য
  • মনিরামপুরে মনোয়ারা ক্লিনিকের সিভিল সার্জনের অভিযান ওটি সিলগালা, ৭ দিনের মধ্যে ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ
  • মনিরামপুরে মনোয়ারা ক্লিনিকের সিভিল সার্জনের অভিযান ওটি সিলগালা, ৭ দিনের মধ্যে ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ

    মনিরামপুর প্রতিনিধি: অনিয়মের অভিযোগে মনিরামপুরে মনোয়ারা ক্লিনিকের ওটি সিলগালা এবং ৭ দিনের মধ্যে ক্লিনিকটি বন্ধের নির্দেশ। মঙ্গলবার যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহিনের নেতৃত্বে একটি টিম ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, প্রশিক্ষনধারী নার্স, সার্বক্ষনিক মেডিকেল অফিসার না থাকা, ক্লিনিকে ১০ বেডের পরিবর্তে ১৮ বেড করাসহ বিভিন্ন্ অনিয়মের দরুন ওটি সিলগালা করে দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ক্লিনিকটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

    মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, মনোয়ারা ক্লিনিকের মালিক আবদুল হাই কোন ডাক্তার না হয়েও বিভিন্ন প্যাড এবং কাগজপত্রে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে আসছিল। এছাড়াও তিনি নিজেকে সার্জারী ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে এলাকা থেকে গর্ভবতী রোগীদের এনে তার ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরবর্তিতে তিনি কোন নিয়ন কানুন না মেনে নিজেই অস্ত্রোপচার করে আসছিলেন।

    এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহিনের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মনোয়ারা ক্লিনিকে অভিযান চালান। এসময় ওটিতে গিয়ে সিভিল সার্জনসহ টিমের অন্য সদস্যরা দেখতে পান সেলিনা খাতুন নামে এক গর্ভবতী রোগীকে অস্ত্রোপচার করছেন ক্লিনিকের মালিক কথিত সার্জারী ডাক্তার আবদুল হাই ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোকনুজ্জামান। অস্ত্রোপচারে সহযোগীতা করেন কথিত নার্স বিলকিস, শিরিনা ও হালিমা। তবে ওটিতে প্রবেশ করতেই কৌশলে সেখান থেকে সরে যান আবদুল হাই।

    পরবর্তিতে ক্লিনিকের মালিক আবদুল হাই নিজে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অস্ত্রোপচার করছিলেন ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোকনুজ্জামান। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আবদুল হাই নিজে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চা ভূমিষ্ট করার পর রোগীর অবস্থা একটু অবনতি হলে চেম্বার থেকে আমাকে ডেকে আনেন। এসময় সিভিল সার্জনকে আসতে দেখেই আবদুল হাই ওটি থেকে সরে পড়েন।

    তবে ওটিতে থাকা নার্স শিরিনা জানান, ডাঃ রোকনুজ্জামান নয় অস্ত্রোপচার করেন ক্লিনিকের মালিক আবদুল হাই। ডাঃ রোকনুজ্জামান বলেন, আমি অনেক বলেছি অবদুল হাইকে অস্ত্রোপচার না করতে। কিন্তু উনি আমার কথা কর্নপাত করেনি।

    ডাঃ রোকনুজ্জামান ক্ষোভের সাথে আরো বলেন, আবদুুল হাই নিজেকে রক্ষা করতে অস্ত্রোপচারের দায় আমার উপর চাপাচ্ছে।

    সিভিল সার্জন ডাঃ আবু শাহিন জানান, এনেসথেসিয়া ডাক্তার না থাকা, সার্বক্ষনিক মেডিকেল অফিসার না থাকা, লাইন্সেস নবায়ন না করা, ১০ বেডের পরিবর্তে ১৮ বেড করা, ডিপ্লোমাধারী কোন নার্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দরুন ওটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ভর্তিকৃত রোগীদের কথা বিবেচনা করে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অভিযানের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ শাহিনুর সামাদ, মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেহেনেওয়াজ, প্রশাসন শাখার আরিফ হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনুপ কুমার বসু, পুলিশের এসআই আবদুল মান্নান।

    আরও পড়ুন