২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
দুর্নীতিবাজরা যাতে শাস্তি পায় দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রতি আহ্বান : রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল আরও ৬ কুমিল্লায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আহত ১৫ কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন সময়ে মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারকে অপর মন্ত্রী খলিলুর রহমান হাক্কানি ঘুষি পুলিস সুপারের হস্তক্ষেপ দাবী: ঋতু ও সাথী’র প্রতারনার হাত থেকে বাচঁতে অসহায় পরিবারের আকুতি শাফিনকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাঘের তাড়া কিংবা খাদ্যের সন্ধানে মায়া হরিণ লোকালয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ বেঁচে থাকলে ৫০ বছরে পা রাখতেন আলিয়ার ভক্তদের জন্য বিজ্ঞাপনের ভিডিও শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে : আলিয়া
  • প্রচ্ছদ
  • অপরাধ >> আইন আদালত >> ছবি ঘর >> টপ নিউজ >> দেশজুড়ে >> বরিশাল
  • এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
  • এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে

    পিরোজপুরে ধর্মকে পুঁজি করে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, মো. খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

    মসজিদের ইমামতি ছেড়ে এমএলএম কোম্পানির ব্যবসা শুরু করেন রাগীব আহসান। অভিযোগ রয়েছে ধর্মভীরু লোকজনের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ১৭ হাজার কোটি টাকা । সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মহিউদ্দীন এ আদেশ দেন।

    পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিরোজপুর শহরতলীর রায়েরকাঠী এলাকার মো. হারুনার রশিদ বাদী হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর মুফতি রাগিব আহসানের পরিচালনাধীন এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড বিল্ডার্স লিমিটেড জমা ভাউচার মূলে (বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে আনা) অধিক মুনাফার প্রলোভনে বিভিন্ন মেয়াদে ৯১ কোটি ১৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৩টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে তারা মুনাফাসহ জমাকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন সময় তালবাহানা করতে থাকে। এভাবে তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দেয়।

    গত ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঢাকার একটি বাসা থেকে এহসান গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার ভাই আবুল বাশারকে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। পিরোজপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এহ্সান গ্রুপের রাগীব আহসানের ভাই ও এহ্সান গ্রুপের সহকারী পরিচালক আবুল বাসার এবং রাগীবের আরেক ভাই ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্য পিরোজপুর বাজার মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ।

    পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.জ.মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাগীব হাসান ও তার তিন ভাইকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

    প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লক্ষাধিক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্সের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি রাগীব আহসান এলাকার মানুষের সঞ্চয়ী হিসাব চালু করেন। জমা করা টাকার ওপর মাসিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে পাসবইসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট দিয়ে টাকা জমা নেন। এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কয়েক মাস মাসিক মুনাফা দেয়ার পর বন্ধ করে দেন। এরপর নানা কথায় সময় পার করতে থাকে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা শুরু করে। এভাবে প্রায় তিন বছর চলার পর টাকা-পয়সা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

    জানা গেছে, এক সময় মসজিদে ইমামতি করতেন মাওলানা রাগীব আহসান। পরে ইমামতি ছেড়ে কাজ নেন ঢাকার একটি এমএলএম কোম্পানিতে। সেখানকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন পিরোজপুরে এহ্সান রিয়েল এষ্টেট এন্ড বিল্ডার্স নামের প্রতিষ্ঠানটি। আর এ প্রতিষ্ঠানের নামে ধর্মভীরু লোকজনের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের গ্রাহক করে হাতিয়ে নিতে থাকেন কোটি কোটি টাকা।

    ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোকজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয় মাঠকর্মী হিসেবে।

    গ্রাহকদের বলা হয়, এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেয়া হবে। এসব মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মূলধন তৈরি করা হয়। শুরুতে কিছু গ্রাহকদের মুনাফার টাকা দিলেও পরবর্তীতে তা দেওয়া বন্ধ করে দেয় মাওলানা রাগীব আহসান। পরে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত চাইলে তাও দেয়া হয়নি।

    অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের জমাকৃত কোটি কোটি টাকা দিয়ে মাওলানা রাগীব হাসান নিজের নামসহ তার আত্মীয়-স্বজন নামে, বেনামে পিরোজপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি কিনেছেন এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।

    আরও পড়ুন