২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
দুর্নীতিবাজরা যাতে শাস্তি পায় দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রতি আহ্বান : রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল আরও ৬ কুমিল্লায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আহত ১৫ কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন সময়ে মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারকে অপর মন্ত্রী খলিলুর রহমান হাক্কানি ঘুষি পুলিস সুপারের হস্তক্ষেপ দাবী: ঋতু ও সাথী’র প্রতারনার হাত থেকে বাচঁতে অসহায় পরিবারের আকুতি শাফিনকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাঘের তাড়া কিংবা খাদ্যের সন্ধানে মায়া হরিণ লোকালয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ বেঁচে থাকলে ৫০ বছরে পা রাখতেন আলিয়ার ভক্তদের জন্য বিজ্ঞাপনের ভিডিও শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে : আলিয়া
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি >> ছবি ঘর >> জাতীয় >> টপ নিউজ >> ঢাকা >> দেশজুড়ে >> প্রধানমন্ত্রী
  • আগামীকাল পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • আগামীকাল পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারের যাত্রাকালে ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীদের হার ছিলো ৪৭ শতাংশ। সরকারের সাড়ে ১২ বছরে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নেয়া নানা উদ্যোগের ফলে ৯৯.৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। চলতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলতি বছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথ সহজ করতে বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে যোগ হচ্ছে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র।

    ৮৭৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আজ (১২ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্য দিয়ে উৎপাদনে নতুন মাইলফলক সৃষ্টির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো বিদ্যুৎ খাত।

    বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো— হাবিবগঞ্জে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিবিয়ানা-৩ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের জুলদায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২, মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঘারহাটের মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেটে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উন্নয়ন ঘটিয়ে আপগ্রেডেশন অব সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট টু ২২৫ মেগাওয়াট।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র মতে, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সচিবালয় সংলগ্ন বিদ্যুৎ ভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উদ্বোধন করবেন। যেসব জেলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উদ্বোধন করা হবে, সেখানে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করবে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব।

    শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ তলায় এ উপলক্ষে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। তুলে ধরা হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের নানা সাফল্য।

    বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান জানান, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ খাত এগিয়ে নিতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিদ্যুৎ বিভাগ বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র মতে, নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও বর্তমান সরকারের সময়ে নতুন করে স্থাপিত হয়েছে ১২০টি। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিলো ২৭টি। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৭টি। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট, বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ), অর্থাৎ ২০ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতোমধ্যে ২০২১ সালের ২৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন পূরণে আরও ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১৯টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজার ৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

    পাওয়ার সেল মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ খাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে জাতীয় গ্রীডে ৮৭৯ মেগাওয়াট যুক্ত হবে, কেন্দ্রগুলোর উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুরো খাতের নতুন মাইলফলক সৃষ্টির পথে সহায়ক হবে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র মতে, ২০০৯ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিলো এক কোটি আট লাখ। বর্তমানে রয়েছে চার কোটি ৯ লাখ, অর্থাৎ ১২ বছরে বেড়েছে তিন কোটি এক লাখ। মোট সঞ্চালন লাইন ২০০৯ সালে ছিলো আট হাজার সা.কি.মি. , বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৩২, অর্থাৎ বেড়েছে চার হাজার ৭৩২ সা.কি.মি.। বিতরণ লাইন ছিলো দুই লাখ ৬০ হাজার, বর্তমানে হয়েছে ছয় লাখ ৬০ হাজার, বেড়েছে তিন লাখ ৭৪ হাজার। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীদের হার ছিলো ৪৭ শতাংশ, বর্তমানে হয়েছে ৯৯.৫০ শতাংশ।

    গত ১২ বছরে বিতরণ সিস্টেম লস কমেছে ৫.৬০ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সিস্টেম লস ছিলো ১৪.৩৩, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিস্টেম লস হয়েছে ৮.৭৩। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাথা পিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা। ২০০৯ সালে ছিলো ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা।

    অর্থাৎ বেড়েছে ২৯২ কিলোওয়াট। বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেবার মান। গত ২৭ এপ্রিল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ ১৩, ৭৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

    আরও পড়ুন