১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আগামী পাঁচ বছরের জন্য যারা নেতৃত্ব দিবেন নাসিক নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত আইভী জয়ী নাসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ চলছে গণনা গভীর রাতে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে সাপাহার থানার ওসি চিরিরবন্দরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাকসিন ১ম ডোজের টিকা প্রদান চিরিরবন্দরে শ‍্যামলী পরিবহন- অটো মুখোমুখি সংঘর্ষে, নিহত-২ আহত ১ ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন চলছে, ভোটারদের উপস্থিতি কম অমিক্রন প্রতিরোধে বেনাপোল ইমিগ্রেশন উদাসীন ! “৮ মাসের শিশু” অপহরণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঢাকার উত্তরা থেকে উদ্ধার
  • প্রচ্ছদ
  • এক্সক্লসিভ
  • চলে গেলেন কুমিল্লা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া জনপদের নক্ষত্র সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ ইউনুস
  • চলে গেলেন কুমিল্লা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া জনপদের নক্ষত্র সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ ইউনুস

    মোঃ আবদুল্লাহ,বুড়িচংঃ

    কুমিল্লা-৫(বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সাবেক চারবারের সাংসদ, রাজনীতির মুরুব্বি, গণমানুষের নেতা, বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ ইউনুস এম ,পি গতকাল সন্ধ্যা ৮.৩০মি.এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
    উজ্জ্বল নক্ষত্র বলার কারণ হচ্ছে তিনি অতি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও চার চার বার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন । স্যারের অন্যতম গুণ ছিল মানুষকে সহজে আপন করে নেয়া এবং প্রতিটি গ্রামের মানুষ দের নাম মুখস্ত রাখা, দেখা হলে নাম ধরে ডাকা ।

    চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যাপনা অবস্থায় ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগ (বৃহত্তর বুড়িচং উপজেলা )থেকে এমপি পদে নির্বাচিত হন। তৎকালীন সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

    পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনুস স্যার জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর নামে বুড়িচং উপজেলায় “বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ” প্রতিষ্ঠা করেন এবং হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কে বুড়িচং এর মাটিতে নিয়ে আসেন। তৎকালীন সময়ে বুড়িচং এরশাদ কলেজই ছিল বুড়িচং উপজেলার একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে অসংখ্য মানুষ পড়ালেখা করেছে।
    বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অধ্যাপক ইউনূস স্যারের ভূমিকা অসাধারণ ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ প্রাইমারি স্কুলগুলো স্যারের আমলে করা ছিল। বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভগবান সরকারি স্কুল সরকারিকরণ করেন তিনি।

    এছাড়া রাস্তাঘাট,পুল কালভার্ট সহ বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন।
    কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে মিরপুর পর্যন্ত যে সড়কটি এটি স্যারের সময়ে সর্বপ্রথম পাকা করা হয় ।

    পরবরর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস স্যার বি,এন,পি তে যোগদান করেন এবং ২০০১সালে এমপি নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনী প্রচারণায় বুড়িচং উপজেলায় নিয়ে আসেন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

    বুড়িচং উপজেলার সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর স্টুডেন্টস এডভান্সমেন্ট (উষা,র) একজন অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন।উষার গন-পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক ইউনূস স্যারের সহযোগিতা উষার সদস্যরা আজীবন স্মরণ করবে।উষার সকল প্রোগ্রামে ইউনূস স্যার আসতেন এবং সকলকে অনুপ্রাণিত করতেন।

    অধ্যাপক ইউনুস স্যারের কর্মজীবনঃ
    স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি(সম্মান), এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করে কলেজে শিক্ষকতা করেছেন এমন কি বুড়িচং আনন্দ পাইলট হাইস্কুলেও কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন ।

    অধ্যাপক ইউনুস স্যারের পরিবারঃ
    স্যারের দুই ছেলে আজ বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব। এক ছেলে স্কয়ারে হসপিটালে চিকিৎসক । বড় ছেলে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার, পিএইচডি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।
    আরেক ছেলে কলেজের শিক্ষক। আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর ওনার ছেলেদের অন্ততঃ মানুষের মত মানুষ করে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    আরও পড়ুন