Breaking News
Home / অর্থনীতি / সাপাহারে মিশ্র বাগান করে কোটিপতি কৃষক সাখাওয়াত হাবীব!

সাপাহারে মিশ্র বাগান করে কোটিপতি কৃষক সাখাওয়াত হাবীব!

মনিরুল ইসলাম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ইতমধ্যে কৃষিপণ্য নির্ভরশীল এলাকা হিসেবে সারা দেশে খ্যতি অর্জন করেছে নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলা। এরই ধারাবিহকতায় মিশ্র ফলের চাষ করে কোটিপতি উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নের ফুটকইল গ্রামের তরুণ উদ্যক্তা সাখাওয়াত হাবিব । পাশাপাশি তার আম ও বরই বাগানে কাজ করে খেয়ে পরে সুখে আছে প্রায় আরও ১শ’টি পরিবার।

আম গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। পরিপক্ব বরইগুলো দেখতে অনেকটা লাল ও সবুজাভ আপেলের মতো। ৯৬ বিঘার বিশাল এই বাগানে এবারই প্রথম বরই ধরেছে। এক সপ্তাহ ধরে বরই বিক্রি শুরু করেছেন কৃষক সাখাওয়াত। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ মণ বরই নামছে তার বাগান থেকে। এবার বরই বিক্রি প্রায় এক কোটি টাকা পাবেন বলে আশা করেছেন তিনি।

গত বছর আমের মৌসুমে মিশ্র ফলের এই বাগান থেকে ২৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছিলেন সাখাওয়াত। মিশ্র ফল বাগান করে সাখাওয়াত এলাকার অন্যান্য কৃষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই বাগান দেখে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন তাঁর বাগান দেখতে বহু লোক আসেন এবং তাঁর কাছ থেকে মিশ্র ফল বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ নেন।

বিশাল এই মিশ্র ফল বাগানটি অবস্থিত নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে শিরন্টি ইউনিয়নের ফুটকইল গ্রামে। ৯৬ বিঘা জমি জুড়ে দুই বছর আগে গড়ে তোলা এই বাগানে আম্রপালি, আশ্বিনা, বারিফোর ও গৌড়মতি জাতের আম গাছ রয়েছে। তবে আম্রপালি জাতের আমগাছই বেশি। আম গাছের সারির ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছেন বল সুন্দরী, কাশ্মেরী আপেল, বেবি কুল, সেডলেস ও থাইকুল জাতের বরই গাছ। ১১ হাজার ৭০০টি বরই গাছের মধ্যে বল সুন্দরী জাতের বরই গাছই বেশি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার আমের গাছের সারির মাঝে চার থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার একেকটি বরই গাছ। এসব গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। আমের গাছগুলোতে মুকুল এসেছে। বিশাল সেই বাগানে ১০-১২ জন করে শ্রমিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গাছ থেকে পাকা বরই ছিঁড়ছেন। বাগান থেকে সদ্য তোলা বরই কিনতে রাজশাহী ও পাবনা থেকে এসেছেন বেশ কয়েকজন।

ঢাকা পোস্ট জানতে চাইলে সাখাওয়াত হাবিব বলেন, বছরে প্রতি বিঘা জমি ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ২০১৮ সালে ফুটকইল গ্রামের ওই মাঠে ৯৬ বিঘা জমি ১২ বছরের জন্য ইজারা নেন তিনি। ওই বছরেই ইজারা নেওয়া জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১২ হাজার ৮০০টি আমের গাছ লাগান। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে সেই বাগান পরিদর্শনে এসে সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আম গাছের সারির ফাঁকা জায়গাগুলোতে বরই গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শ মতো তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরই গাছের চারা সংগ্রহ করেন এবং আম গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ১ ফুট লম্বা সমপরিমাণ ১১ হাজার ৭০০ টি বরই গাছের চারা রোপন করেন। গত বছরের মে মাসে তিনি এসব চারা রোপন করেন ৯৬ বিঘা জমিতে বরই চাষ করতে তাঁর প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন তিনি। আরও অন্তত ৯০ লাখ টাকা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সালে তাঁর নিজের একটি মোটরসাইকেল ও মায়ের দেওয়া একটি গাভী বিক্রি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় পত্নীতলায় নির্মইল এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ বিঘার একটি আমের বাগান তিন বছরের জন্য ইজারা নেন। ওই বাগান পরিচর্যা করে পরের বছরই সেই বাগানের আম বিক্রি করে তিনি ৪ লাখ টাকা আয় করেন। লাভের সেই টাকা দিয়ে ১২ হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে ১২ বছরের জন্য নির্মইল এলাকায় ২০ বিঘা জমি ইজারা নেন। সেখানে গড়ে তোলেন আমের বাগান। এরপর প্রতি বছর তাঁর পুঁজি বাড়তে থাকে। সাপাহার ফুটকইল এলাকার ৯৬ বিঘার ওই মিশ্র ফল বাগান ছাড়াও সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে তাঁর ৩৫০ বিঘার আম বাগান রয়েছে।

বেশি সুস্বাদু হওয়ায় বরই চাষ হচ্ছে সবেচেয়ে বেশি। আম লাভজনক হলেও চারা লাগানোর প্রায় দুই বছর পর ফল ধরে। কিন্তু মিশ্র ফল বরই অল্প সময়ে পাওয়া যায়। অধিক লাভের আশায় বরই চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়ি। এ বছর প্রতিমণ বরই পাইকারি দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেই হিসেবে অনুযায়ী এককোটি টাকা ফল বিক্রি হবে যদি বাজার ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকে বলে জানিয়েছেন।
সাখাওয়াত হাবিব এর সাফল্যে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এলাকার অনেক যুবক বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিশ্র চাষ অধিক লাভজনক। মিশ্র বাগানে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। প্রথমে গাছ লাগানো এবং জমি তৈরির পর কীটনাশ ও যৎসামান্য পরিচর্যা ছাড়া কঠিন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।

শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, আমি বদলগাছি উপজেলা থেকে বাগানটি দেখতে এসেছি। অনেকের মুখ থেকে শুনেছি সাখাওয়াত হাবিব এর বাগানের কথা। এখানে এসে অনুপ্রেরণা পেলাম এবং অন্যেকে তার সফলতার গল্প বলবো বাগানটি সম্পর্কে। বাগানটি সকলকে একবার এসে দেখে যাওয়া উচিৎ কারণ অনুপ্রেরণা পাবার জন্য। আমি নিজেও একটি বাগান করবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেখার পর। খুব সুন্দর পরিবেশ এখান থেকে প্রত্যেকের শিক্ষা নেয়া উচিৎ একজন বেকার যুবক কৃষি কাজ করে কোটিপতি হতে পারে তার জলন্ত উধাহরণ। সব চাইতে বড় কথা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।এতো সুন্দর একটি বাগান চমৎকার দৃশ্য যা কল্পনাও করা যায় না।

 

কৃষি শ্রমিক সাইজ উদ্দিন বলেন, এখানে জমির বেড তৈরি , পানি সেচ , আম ভাঙ্গা, বরই ভাঙ্গা সহ সব ধরনের কাজ বছর জুড়ে থাকে। প্রতিদিন ৪০০ টাকা আয় আসে বাগান থেকে।

ফল বিক্রেতা হারুন-অর রশীদ বলেন, আমি মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হাবিব ভাই এর বাগান থেকে বরই ও আম সহ নানা ধরনের ফল কিনি। এতো বড় বাগান সাপাহার, পোরশার মধ্যে এটিই।

এখান থেকে ফল কিনে বরিশাল, ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করি। বরই সিজিনে প্রতিদিন ১৫০/২০০ ক্যারেট ক্রয় করি। এই সিজিনে বরই প্রতিমন ২০০০ থেকে ২৪০০ টাকায় কিনছি। তিনি অন্য কারো কাছে ফল বিক্রি করে না তাই লাভের অংশটা বেশি থাকে।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, সাখাওয়াত হাবিব যেন আরও বেশি লাভবা

Check Also

সরকারি রাস্তা দখল করে মণিরামপুরে পাঁকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ

মণিরামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুরের কোনাকোলা বাজারে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার জমি দখলের পর পাকা স্থাপনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *