Breaking News
Home / কোভিড-১৯ / রেকর্ড ১৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত আট হাজারের বেশি

রেকর্ড ১৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত আট হাজারের বেশি

দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙে আবারো নতুন রেকর্ড হলো। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ২৭ জুন ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল ১১৯ জনের। সর্বোচ্চ মৃত্যুর ছাড়াও টানা পাঁচ দিন শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ডও হলো। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজার ৬৪৬ জনে।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩০১ জন। এতে মোট শনাক্তরে সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ২১ হাজার ৫৫৯ জন। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৯০।
এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে একবার মৃত্যু ও দুইবার শনাক্তের রেকর্ড ভাঙা দেখলো দেশ। কঠোর লকডাউনে যাওয়া কত জরুরি ছিলে, তা শনাক্ত ও মৃত্যু এই পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কেবল খুলনা বিভাগেই মারা গেছেন ৪৬ জন; ঢাকা বিভাগে ৩৫ জনের প্রাণ নিয়েছে এ ভাইরাস।

গত এপ্রিলের রেকর্ড ভেঙে ২৭ জুন এক দিনে ১১৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তার চার দিনের মাথায় নতুন রেকর্ড দেখতে হলো বাংলাদেশকে।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৩ জন। যা নিয়ে মোট সুস্থ ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩২ হাজার ৯২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৯০।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সেখানে কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে রোগী শনাক্ত ২০ শতাংশের বেশি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জেলা করোনার ভয়াবহতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম মৃত্যুর আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ অগাস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা।

এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটলে গত ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে মাত্র দশ দিন সময় নেয় করোনাভাইরাস; মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল।

তার ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার এক মাস পর ১১ জুন তা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছিল। এর ১৫ দিন পর ২৬ জুন এই সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

দিনে মৃত্যুর রেকর্ডও হয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে। ১৯ এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৭ জুন মৃত্যু হয় ১১৯ জনের। ৩০ জুন ১০৮ জনের মৃত্যু হয়।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

Check Also

কোভিড-১৯ টেষ্টের জন্য লোক নিয়োগের নামে প্রতারণায় মো. মোস্তাকিম আহমেদ গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কোভিড-১৯ টেষ্টের জাল অনুমতিপত্র তৈরি করে দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টেষ্টের জন্য লোক নিয়োগের নামে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *