Breaking News
Home / অর্থনীতি / রূপগঞ্জে নৌকার গ্রাম গাবতলী-অধিকাংশ পরিবার নৌকার কারিগর

রূপগঞ্জে নৌকার গ্রাম গাবতলী-অধিকাংশ পরিবার নৌকার কারিগর

রূপগঞ্জ (নারায়ণঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গাবতলী গ্রাম। গ্রামটিতে পরিবারের সংখ্যা ৫৬। এদের অধিকাংশ পরিবারের কর্তাই নৌকার কারিগর। তারা বাপদাদার কাছ থেকে কাজের কৌশল রপ্ত করেছে। গাবতলী এখন নৌকার গ্রাম হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া থেকে আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ প‚র্বদিকে ছোট্ট এ গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্র²পুত্র নদী। এ গ্রাম রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানার ত্রিমোহনায় অবস্থিত। আর দশটা গ্রামের মতো এখানেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে। এক সময় এ গ্রামে শিক্ষিত পরিবার ছিলনা। এখন প্রত্যেক পরিবার তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলে মেয়েরা বড়দের এ কাজে সাহায্য করছে। গ্রামের চারদিকেই বর্ষার পানিতে থৈথৈ করে। তাই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌকা। সে কারণেই এখানে নৌকার চাহিদা বেশি। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অন্যের চাহিদা প‚রণে তারা থাকে ব্যস্ত। গাবতলী গ্রামের কারিগরদের তৈরি করা নৌকার চাহিদা আশপাশের জেলাগুলোতেও বেশি। পুকুরে মাছের খাবার দিতে, মাছ পরিবহনে, মাছ ধরতে ও বিভিন্ন খাল-বিল জলাশয়ে চলাচলে নৌকার বিকল্প নেই।

বর্ষা শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন ভোরে হাতুরি পেটানোর ঠক্ ঠক্ শব্দে ঘুম ভাঙ্গে এ গ্রামের শিশু ও নারীদের। স‚র্য উঠার আগেই কারিগররা ব্যস্ত হয়ে উঠে। ছোট বড় সবাই নৌকা তৈরির কাজ করে। চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় এই ৪ মাস নৌকার কারিগরদের ফিরে তাকানো ফুসরত নেই। বাকি সময় জলচৌকি, কাহাইল, সাহাইড, চৌকি, পড়ার টেবিল, কাঠের চেয়ার সহ আসবাবপত্র তৈরি করে। প্রায় ১’শ বছর আগে এ গ্রামে পঁচু চন্দ্র ও হরচন্দ্র নামের দুই ব্যক্তি বসবাস করতেন। তারাই নৌকার আদিকারিগর।

গাবতলী গ্রামের নৌকার কারিগর হরিহর বিশ্বাস বলেন, আমরা আদি পুরুষের কাছ থেকে নৌকা তৈরির কাজ শিখেছি। আয় যাই হোক আমরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজ করি। বাপদাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রামে এখন নতুন কারিগর তৈরি হচ্ছে। এখন বর্ষা মৌসুম। আমাদের বিশ্রাম নেই। নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাবতলী গ্রামের নৌকার কারিগর রতন চন্দ্র বিশ্বাস (৫২) ঘরের বারান্দায় নৌকা তৈরি করছেন। পাশেই তার পিতা প্রফুল্ল চন্দ্র বিশ্বাস (৭০) জলচৌকি তৈরি করছেন। রতন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, তার পিতা ৫৪ বছর ধরে নৌকার কাজ করছেন। আমি তার কাছ থেকেই শিখেছি। বাবা এখনও কাঠ দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র নিমিষেই তৈরি করতে পারেন।

রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন হাটে নৌকা বিক্রি করা হয়। তবে অনেক ক্রেতা এ গ্রামেই আসেন নৌকা ক্রয় করতে। এখানে ছোট বড় সব ধরণের নৌকা তৈরি হয়। ছোট নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বড় নৌকা ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তাতেই চলে নৌকার কারিগরদের সংসার।

Check Also

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও সেই অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্ত্রণালয়ে

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *