Home / অর্থনীতি / মহামারি করোনায় সবকিছু থমকে গেলেও থেমে থাকেনি চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শাহাজাদী গুলবাহার মালা

মহামারি করোনায় সবকিছু থমকে গেলেও থেমে থাকেনি চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শাহাজাদী গুলবাহার মালা

আহসান আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: বৈশ্বিক মহামারি করোনায় থমকে গেছে বিশ্ব। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে ভঙ্গুর। করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় গতবছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঘরে বসে অলস সময় পার করছে লাখো শিক্ষার্খীসহ দেশের শিক্ষকরা। বিশেষ করে দেশের বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাজুক অবস্থা। কিন্তু এই বিরুপ পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেনি চুয়াডাঙ্গার মেয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর আব্দুল আওয়াল বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক শাহাজাদী গুলবাহার মালা। বৈশ্বিক এই করোনার মহামারীতে নানা প্রতিকুলতাকে জয় করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ভুমিকায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ মহিলা কলেজপাড়ার মোহাম্মদ শাহজাহান বাবলু ও পুতুলের কন্যা শাহাজাদী গুলবাহার মালা।
একান্ত আলাপচারিতায় শাহাজাদী গুলবাহার মালা কলেন,একজন নবীন উদ্যোক্তার কাছে স্বপ্ন দেখাটা দোষের কিছু না। বরং সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় ইচ্ছাশক্তি,আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য্যশক্তি। তারপরই ধরা দেয় সফলতা। সেই ২০১৮ সাল থেকেই আমি উদ্যোক্তা হয়েছি। তখন আমি মেয়েদের পোশাক নিয়ে অনলাইনে কাজ করতাম। পারিবারিক সমস্যার কারনে বেশিদুর এগুনো সম্ভব হয়নি। স্বামীর চাকরীর সুবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাস করে আসছিলাম। সেই সাথে গাজীপুরের টঙ্গীতে আব্দুল আওয়াল বিদ্যানিকেতনে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করি। করোনার কারনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারনে বাড়িতেই অবস্থান করছিলাম। করোনার মহামারীতে সবাই যখন ঘরবন্দী। কেই আবার আশক্ত ফেসবুকে, কারও আবার অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।

উদ্যোক্তা হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, করোনায় হাজারো মানুষ হারিয়েছে তাঁদের কর্মসংস্থান। ঘরের কাজ সামলে অলস সময় পার করতে ফেসবুকই যখন একান্ত সঙ্গী হয়ে উঠল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে খুলবে করেও যখন আর খোলেনি। ঠিক তখনই মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন দানা বেঁধে ফেসবুককে কাজে লাগানো শুরু করলাম। শুরু হলো আমার উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন স্বপ্ন। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। সংগ্রহ করতে শুরু করলাম বিভিন্ন ফলের খোসা, ফলের রস, তুলশী পাতা, পুদিনা পাতাসহ বিভিন্ন ঔষধি গাছের পাতা। সাথে ছিলো চাউলের গুড়া আর বিভিন্ন ভেজিটেবল দিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী তৈরী করা শুরু করলাম নতুন প্রোডাক্ট। অর্গানিক সাবানসহ আমার তৈরীকৃত পণ্যগুলো আগে নিজে ব্যবহার করলাম। ফলাফল ভাল পাওয়ার পর ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার শুরু করলাম। তিনি আরও বলেন,অনলাইনে আমার পণ্য প্রথম সংগ্রহ করেন চুয়াডাঙ্গা শহরের গোরস্থান পাড়ার মাছপট্রি এলাকার সাংবাদিক পত্নী নাজমীন পারভীন। তিনি আমার পণ্য ব্যবহার করে ফেসবুকে কমেন্ট করার পর আমার তৈরীকৃত পণ্য নিয়ে বর্তমানে প্রচুর সারা পাচ্ছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমার পণ্য অনলাইনে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে আমার পণ্য ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতিটি জেলাতে হোম ডেলিভারী দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গায় আমার বোন বেলা এবং চাচাতো ভাই শোভন এবং গাজীপুরে আমাকে স্বার্বক্ষনিক সহযোগীতা করেন আমার স্বামী আবুল বাসার বিমান। আমাকে সহযোগীতা করতে কখনও কখনও পাশে থাকে একমাত্র মেয়ে আমব্রিনা বাসার আনাউম। সকলের সহযোগীতা পেলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন উদ্যোক্তা।

শাহাজাদী গুলবাহার মালা তার অদম্য প্রতিভা,অক্লান্ত পরিশ্রম আর চেষ্টা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন মেয়েরা কোন কিছুতে পিছিয়ে নেই। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এখন সবকিছুতে পারদর্শী। ভবিষ্যতে তিনি তার এই উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে চান। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Check Also

রূপগঞ্জের সেজান জুস কারাখানায় অগ্নিকাণ্ড: লাশের অপেক্ষায় স্বজনরা

রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারাখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত ২৪ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *