Breaking News
Home / অর্থনীতি / দিরাইয়ে কে কায় কার সম্পত্তি

দিরাইয়ে কে কায় কার সম্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পরের জায়গা পরের জমিন/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো এই ঘরের মালিক নই—ঘরের মালিক যে প্রকৃত অর্থে কে, তা নিয়ে এই পৃথিবীতে কম বিপত্তি ঘটেনি।

বলা যায়, মানুষে মানুষে সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব-বিবাদ হয়েছে জমি বা সম্পত্তির অধিকার নিয়ে। কিন্তু এই দ্বন্দ্ব ও কারচুপি ইতিহাসে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার এক প্রবাসী ও কেয়ারটেকারের কাহিনী নিয়ে সম্প্রতি দেশের শীর্ষ স্থানীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন যমুনা নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল।

যা অবাক করে দিলো,দেশ ও প্রবাসের মানুষদেরকে। একজনের সারাজীবনের কষ্টের অর্জিত সম্পদের মালিক হয় আরেকজন কিভাবে হন এমন প্রশ্নের উত্তর মিলাতে অংক কষছেন সমাজের সচেতন মানুষ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষজন।

সকলের প্রশ্নের যোগফল মেলাতে প্রবাসী শাহ জাকারিয়া কাছে চলে যাই আমরা। শাহ জাকারিয়া সাক্ষাৎকারে ও জগদল গ্রামের প্রবীন মুরুব্বীদের তথ্য মতে বেরিয়ে আসে আক্কল আলী ওরফে শাহ আক্কল আলীর জমি ও ভূমি দখলের আসল চিত্র,। যাহা আপনারা দেখেছিলেন যুমনা টেলিভিশনের প্রতিবদনে।

আক্কল আলীর বাড়ীর প্রবীণ মুরুব্বী আক্কল আলীর চাচা’র সাক্ষাৎ কারে প্রবাসী পরিবারের সাথে আক্কল আলীর প্রথম সম্পর্কের কথা বেড়িয়ে আসে। আক্কল আলীর পিতা জগদল ফকির বাড়ীর শাহ তফজ্জুল আলী তিনি ফকিরালী সমাজের লোক ছিলেন, পরিবার ও ছেলে মেয়েদের ছেড়ে দীনহীন ভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেন। তার দাদা শাহ জহির আলী আক্কল আলীর ভাই বোনদের বের করে দেন বাড়ী থেকে।

আক্কল আলী আর্থিক অভাবে অন্যত্রও চাকরি করতেন। লন্ডন প্রবাসী জাকারিয়ার পিতা শাহ মোহাম্মদ আলী দয়ালু হয়ে আক্কল আলীকে আশ্রয় দেন তার বাড়ীতে । এ দয়ায় ঘিরেছে শাহ জাকারিয়ার পরিবারের আপদ এখান থেকেই শুরু হয় সমস্ত সমস্যার জনম। আক্কল আলী প্রথমে শাহ মোহাম্মদ আলী’র পরিবারের বিভিন্ন বিষয়াবলী সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতেন।

কিন্তু লোভের মুহে তিনি কন্ট্রোল থাকতে পারেন নি। লোভে পড়ে তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অন্যের সম্পত্তির দিকে। দখল করতে জাল কাগজ ও করেছেন একাধিক,। তার দখলে রয়েছে লন্ডন প্রবাসী শাহ জাকারিয়া’র অনেক মূল্যবান বাসা ও ভিটে শেষ পর্যন্ত আক্কাল আলীর কাছ থেকে রক্ষা পায়নি পারিবারিক কবর স্থান টাও। একে একে তিনি দখল করেছেন সব কিছু।

লন্ডন প্রবাসী শাহ জাকারিয়া জানান, ১৯৮৮ সালে আমার পিতা শাহ মোহাম্মদ আলী আমার নামে জগদল গ্রামে ও দিরাই পৌরসভায় দুটি বিল্ডিং নির্মাণ করেন ও আমার মায়ের নামের বাসাটিকে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে দখল করেন আক্কল আলী। আমার পিতা মরহুম শাহ মোহাম্মদ আলী মারা যাওয়ার পর থেকে আক্কল আলী আমাদের অর্জিত সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে মরিয়া ঊঠেন। এবং আস্তে তিনি আমাদের সব কিছু জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। যাহা বিগত দিনে এ নিয়ে বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দাদা ও অনেক সালিশ কার্য করেছেন। আর আপনারা তো দেখেলেন যমুনা টিভির প্রতিবেদন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আক্কল আলী জমি ও ভূমি দখলের পাশাপাশি অবৈধ হোন্ডি ব্যবসা ছাড়াও অনেক দূর্নীতির সাথে জড়িত আছেন। দিরাই পৌরসভা সহ সিলেট সুনামগঞ্জের বিভিন্ন মূল্যবান অঞ্চলে আক্কল আলী হোন্ডি ব্যবসা করে অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজের নামে ও স্ত্রী’র নামে অনেক জায়গায় সম্পত্তি ক্রয় করিয়েছেন ইতিমধ্যে। শাহ জাকারিয়া আরো জানান,আমাদের পরিবারের সকলের পারিবারিক কবর স্থান ও রক্ষা পায়নি উনার কাছ থেকে তিনি আমার নাম খারিজ করে তাহার আপন ভাই ও তার নামে ভুয়া কাগজপত্র করে দখল করেন। যা এলাকার মানুষজন অবগত।

এছাড়াও আমাদের মৌওরসী জায়গায় জমির কাগজ পত্রে তিনি দখল করিবার স্বার্থে অনেক কাগজের ঝামেলা সৃষ্টি করেন। আমার পিতার জগদল বাজারে ক্রয়কৃত একটি দোকানের ভিটা তার নাম পরিবর্তন করে কাগজ করে দখল করেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আক্কল আলী অন্যের সাথে শুধু জালিয়াতি করেন নাই। তার জালিয়াতির জাল থেকে রক্ষা পায়নি তার সৎ ভাই-বোনেরা,। আক্কল আলীর পিতার ১২ কেদারা জমিন ছিলো, সৎ ভাইদেরকে এ জমি থেকে বঞ্চিত করতে আক্কল আলীর মা জগত মালার নামে ৬ কেদারা জমি রেকর্ড করেন। আক্কল আলী নিজেকে মানুষের সামনে একজন ধার্মিক ও সামাজিক মানুষ সাজতে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দখল করে নিতেন একমাত্র অর্থের বিনিময়ে। দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের সামাজিক নেতৃবৃন্দের কাছে আক্কল আলীর সম্পর্কে জানতে চাইলে,অনেকই বলেন,আমরা লোকটাকে ধার্মিক ভেবে আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছি।

গত দিন যমুনা টিভির প্রতিবেদন ও শাহ জাকারিয়া কাছ থেকে তার অপকর্মের ঘটনায় জানতে পেরে আমরা লজ্বা শরমের ভুগতেছি। এরকম বাটপার প্রতারক ও অন্যের সম্পত্তির দখলকারীর বিচার চাই। আক্কল আলীর তিলোত্তমা কান্ড দেখে গ্রামের বাড়ী দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামে সাধারণ মানুষ থেকে নিয়ে সকলেই ধিক্কার জানিয়েছেন।

এলাকার বিভিন্ন হাট -বাজারে বইছে সমালোচনার ঝড়,। জগদল গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলকাছ মিয়া’র ছেলে তোরণ মিয়া জানান,আক্কল আলীর এই সমস্ত কর্ম কান্ডে এলাকার মানুষজন উনাকে বয়কট করেছে। এলাকার মানুষ উনার মৃত দেহ টাকে এলাকায় টাই দিবেনা বলে অনিহা প্রকাশ করেছেন।

Check Also

মেয়র’র মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত আলী আহাম্মেদ চুনকার সহধর্মিণী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *