Breaking News
Home / প্রধান সংবাদ / অ্যাপে অক্সিজেন মাপছেন কি?

অ্যাপে অক্সিজেন মাপছেন কি?

‘একটা অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করুন! আর নির্ভুল ভাবে মেপে নিন নিজের পালস রেট থেকে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা। জাস্ট ফোনের ক্যামেরা ফ্ল্যাশের উপর আঙুল ঠেকাতে হবে!’— খবরটা পড়েছিলেন? বিজ্ঞাপন? অ্যাপের? সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব জনপ্রিয়ও হয়েছিল কিন্তু। অনেকেই স্বস্তি পেয়েছিলেন, অক্সিমিটারের খরচ বাঁচল ভেবে। আর ফোনে আঙুল ঠেকিয়ে দেখেও ফেললেন, রক্তের অক্সিজেন লেভেল দিব্যি ভালো আছে! হয়ে গেল! একে অক্সিজেন লেভেল ভালো, তায় আবার কোনও রকম খরচও হল না! আনন্দের কথাই তো।

কিন্তু মুশকিল হল, সপ্তাহ দুয়েক কাটতে না কাটতেই আনন্দ আর আনন্দ রইল না! যা হল, তাতে হৃৎকম্প বন্ধ হওয়ার জোগাড়। দেখা গেল, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা!

আঁতকে উঠলেন? আমরাও আঁতকে উঠেছিলাম। কিন্তু ঘটনা এটাই। তবে এর মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসতে শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভুয়ো অ্যাপ নাকি এগুলো! নামে অক্সিজেন লেভেল চেক করার অ্যাপ। আসলে টাকা চুরির কারবার। ক্যামেরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর ফোনের তথ্য হ্যাক করে!

ব্যস! খবর পেতেই তড়িঘড়ি আনইনস্টল করলেন অনেকে অ্যাপটি। কিন্তু তখন আর কিচ্ছু করার নেই। কারণ প্রায় রোজই তখন ক্যামেরার উপর আঙুল ঠেকিয়েছেন অক্সিজেন মাপার জন্য! আর ইন্সটল করার সময় না পড়ে অ্যাপের অনেক রিকোয়েস্টেই নির্দ্বিধায় ‘ওকে’ প্রেস করে দিয়েছেন টাকা বাঁচানোর আনন্দে। আর তার মধ্যে যদি কিছু হওয়ার থাকে তা হয়ে গেছে। কারণ প্রায় রোজই একবার করে আঙুল দিয়ে এসেছেন ক্যামেরার উপর।

এই অতিমারীর সময়ে যখন শরীর থেকে সংসার— সব কিছুরই টালমাটাল অবস্থা— বহু স্বেচ্ছাসেবী আর রেড ভলান্টিয়ার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন মানুষকে একটু ভালো রাখার জন্য। আর সেই সময়েই অনেকেই সেই ‘স্রোতে’ মিশে গিয়ে চেষ্টা করছেন লোক ঠকানোর। মানুষের ইন্টারনেট-নির্ভরতা কাজে লাগিয়ে মরার উপর খাঁড়ার ঘা দিচ্ছে তাঁরা— এই বাজারে মানুষের যেটুকু যা সঞ্চয় ছিল, তাতেও থাবা বসিয়ে।

মোবাইল অ্যাপে পালস-অক্সিমিটার নিয়ে গবেষণা কিছু জায়গায় হয়েছে, এ কথা সত্যি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে হাতের আঙুলের মধ্যে দু’টি আলাদা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল এবং ইনফ্রারেড আলো পাঠানোর দরকার হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থা সব মোবাইল ক্যামেরায় থাকে না। তাই এই অ্যাপগুলি সেই সব ফোনে কাজও করে না। উল্টে অ্যাপের স্পাইওয়্যার জেনে নেয়, ইউজারের ঠিকুজি-কুষ্ঠি। যা দিয়ে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স তথা প্রাইভেসির সাড়ে-সর্বনাশ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

তবে এখানেই শেষ নয়। এই জালিয়াতির শুধু অ্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়, তার হাত অনেক দূর— ওয়ান টু ওয়ান ইনট্যারাকশনের ক্ষেত্রেও । কিছুদিন আগেই যখন অক্সিজেনের হাহাকারে সারাদেশ তোলপাড়, তখনই খেয়াল করে দেখুন, দিনে প্রায় দশ-বারোটা করে ফোন নম্বরের লিস্ট ঢুকতে শুরু করেছিল আপনার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ মারফৎ। কিছুতে আবার প্রেরক লিখে দিয়েছেন ‘ভেরিফায়েড’। আপনার হয়তো দরকার পড়েনি। তবু জনস্বার্থে ফরোয়ার্ড করেছেন নির্দ্বিধায়। কিন্তু অনেকেই এই জিনিস করতে গিয়ে ঠকেছেন বেমালুম!

ওই নম্বরগুলির বেশ কয়েকটিতে ফোন করলে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফোনই সুইচড অফ বা ব্যস্ত। অনেকেই ভেবেছেন, এই বিপুল চাহিদা মেটাতে মেটাতে সেই ফোন নম্বরের মালিক হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। হয়তো বা ব্যস্ত কোনও মুমুর্ষুর সেবায়। তার পরে যখন ফোন খোলা পাওয়া গেল, অনেকের কাছ থেকেই অ্যাডভান্স পেমেন্ট ও রোগীর আধার কার্ডের ছবি চেয়েছে তারা। শিয়রে শমন যখন, তখন অনেকেই তখন সাতপাঁচ ভাবার সময় না নিয়েই সব তথ্য দিয়ে দিয়েছেন সবটাই, আর প্রহর গুনেছেন, কখন আসে প্রিয়জনের প্রাণ বাঁচানোর অক্সিজেন। কিন্তু না। সেই অক্সিজেন এসে পৌঁছয়নি। আর ফোনেও পাওয়া যায়নি সেই মহাব্যস্ত ‘সাহায্যকারী’দের।

তারা হয়তো তখন অন্য কারওর কাছ থেকে ‘অক্সিজেনের অর্ডার’ নিতে ব্যস্ত। এ ভাবেই আর্তের অসহায় অবস্থার সুযোগে হয়েছে অনেক জালিয়াতিই।

শুধু কি তাই?

এদের জাল তো ছড়িয়ে আছে নানা ওয়েবসাইটেও।

আপনি হয়তো কিছু বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কিনতে চেয়ে ফোন এল। কিন্তু ক্রেতার পক্ষে সম্ভব নয়, আপনার বাড়ি এসে পণ্য নিয়ে যাওয়া। তাই তিনি অনলাইনে পেমেন্ট করে দেবেন। আপনি রাজি। কারণ জিনিসটি পাঠানোর গাড়িভাড়া দিতেও রাজি আছেন ক্রেতা মহাশয়। একটু পরেই আপনার ফোনে এসে গেল, পেমেন্ট ‘সাকসেসফুল’ হওয়ার স্ক্রিনশট। এ দিকে চেক করে দেখলেন ব্যাঙ্কে টাকা ঢোকেনি। আপনি সাথে সাথে জানালেন। তিনি বললেন, মনে হয় কোনও প্রযুক্তিগত কারণে দেরি হচ্ছে। তার পরেও আপনার মন মানে না। তখন তিনি পাঠালেন একটি কিউআর কোড। বললেন, সেটি স্ক্যান করে টাকার অঙ্ক লিখে ইউপিআই কোড দিয়ে দিলেই টাকা পাওয়া যাবে। আপনি কথামতো কাজ করতেই ব্যাঙ্ক থেকে মেসেজ এল। মনটা নেচে উঠল। কিন্তু মেসেজ খুলে চক্ষু চড়কগাছ। টাকা ঢোকেনি, বেরিয়ে গেছে! তাড়াহুড়োয় আপনি খেয়াল করেননি। কিউআর কোডে ডেবিট রিকোয়েস্ট ছিল। ক্রেডিট নয়! ততক্ষণে ক্রেতা লা-পাতা। এটা যে আপনার সঙ্গে হয়েইছে বলছি না, কিন্তু আপনার মতো অনেকেই এই লোকঠকানো কারবারের ভুক্তভুগী।

কী করবেন তা হলে?

সচেতন হতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। অন্য কোনও উপায়! জাস্ট নেই।

সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট আবির আত্যর্থী জানিয়েছেন, এই ধরনের সাইবার ক্রাইমের সংখ্যা বেড়ে চলেছে দিনে দিনে। তাই এমন কোনও ঘটনা ঘটলেই জানাতে হবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেলে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দিতে হবে, ঘটনাটা, তথ্য প্রমাণ দিয়ে। তা হলে, অন্য কেউ অন্তত একই রকম কোনও সমস্যা থেকে বাঁচলেও বাঁচতে পারবেন!

Check Also

সিদ্ধিরগঞ্জে অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারালো

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রোডে চৌধুরী বাড়ি পি এম গার্মেন্টস সংলগ্নে একটি পাট বোঝাই ট্রাক ( …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *